Breaking

Wednesday, October 17, 2018

7:44 AM

সালমান খানের বিরুদ্ধে এবার ধর্ষণের অভিযোগ

হ্যাসট্যাগ মি টু লিখে যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন বলিউড তারকারা। অভিনয় শিল্পী থেকে শুরু করে নির্যাতনকারীদের এই তালিকায় আছেন পরিচালক, প্রয়োজকরা। তবে এবার যার নামে অভিযোগ উঠেছে, সেটা শুনলে কিছুটা হলেও থমকে যাওয়ার কথা। কেননা বলিউডের পোষ্টারবয় বিবেচনায় যার নাম সবার আগে আসবে সেই সালমান খানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন সাবেক বিগ বস প্রতিযোগী পূজা মিশ্রা। তিনি এক বাক্যে বলে দিলেন, ‘আমাকে ধর্ষণ করেছেন সালমান খান।’

নিজের তিক্ত সেই অভিজ্ঞতার কথা ভিডিও’র মাধ্যমে ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন পূজা। তিনি জানান, ‘তার ওপর কালো জাদু করা হয়েছিল। মেয়ের ক্যারিয়ারের জন্য যা করেছিলেন শত্রুঘ্ন সিংহা ও তার স্ত্রী। শুধু তাই নয় তার ফোন ও ল্যাপটপ হ্যাক করেন বর্ষীয়ান এই অভিনেতা।’

একই সাথে তিনি বলেন, সালমান খান ও তার ভাই আরবাজ ও সোহেল তাকে ধর্ষণ করেন। যার ফলে তিনি শারীরিক ও মানসিক ভাবে এতটাই ভেঙে পড়েন, যে আর ফিরতে পারেননি।

ইতিমধ্যে পূজার সেই ভিডিও শোরগোল ফেলে দিয়েছে বলিউডে। অনেকে সালমান খানের নামে এফআইআর দায়ের করতে বলেছেন। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে এই অভিযোগের ভিত্তিতে দিল্লির সিআর পার্ক থানায় এফআইআর দায়ের করেছিলেন পূজা। কিন্তু সেবার চাপা পড়ে যায় বিষয়টা।

এদিকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠায় হাউসফুল ফোর থেকে সরে গেছেন পরিচালক সাজিদ খান ও অভিনেতা নানা পাটেকার। সম্প্রতি প্রকাশিত হলো আরেক খবর। ওই দুজনকে প্রত্যাহারের আদেশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।

প্রকৃত অর্থে প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা নয়, যৌন হয়রানির অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়েছিল লস অ্যাঞ্জেলেসের ফক্স স্টার স্টুডিও। এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে হাউসফুল ফোর ছবিটি নির্মিত হচ্ছে। তাদের হস্তক্ষেপেই পরিচালক সাজিদ খান ও অভিনেতা নানা পাটেকারকে বাদ দিয়েছেন প্রযোজক। হাউসফুল ফোর ছবির এক সূত্র সম্প্রতি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। ফক্সের নির্দেশ পেয়ে বিন্দুমাত্র দেরি করেননি নাদিয়াদওয়ালা। তিনি চাননি এই ইস্যুতে ফক্সের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক খারাপ হোক।

অন্তত তিনজন নারী অভিযোগ তুলেছেন সাজিদ খানের বিরুদ্ধে। তাদের মধ্যে রয়েছেন অভিনেত্রী সালুনি চোপড়া, র‍্যাচেল হোয়াইট ও সাংবাদিক কারিশমা উপাধ্যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা জানিয়েছেন তাঁদের সঙ্গে সাজিদ খানের উৎপীড়নমূলক আচরণের ঘটনা। তাদের দাবি, প্রত্যেকের কাছেই নোংরা আবদার করেছেন সাজিদ খান, দিয়েছেন কুপ্রস্তাব। এঁদের মধ্যে সাংবাদিক কারিশমার করা অভিযোগটি ভয়াবহ। আর সালুনিকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা বলবে তা না করলে ছবিতেই নেবেন না সাজিদ।

পরিচালক সাজিদ খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর হাউসফুল ফোর ছবির শুটিং বন্ধ করে দেন ছবির নায়ক অক্ষয় কুমার। প্রযোজককে তিনিই প্রথম বলেছিলেন, ঘটনা প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত ছবির শুটিং বন্ধ রাখতে হবে। অক্ষয়ের এই দাবির সঙ্গে সঙ্গে পরিচালক সাজিদ খান নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে সরে এসেছেন নিজের পদ থেকে। অভিনেত্রী সালুনি চোপড়া, র‍্যাচেল হোয়াইট ও সাংবাদিক কারিশমা উপাধ্যায় তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, হলিউডের ‘#মি টু’ আন্দোলনে উমা থরম্যান, অ্যাঞ্জেলিনা জোলি এবং অ্যাশলে জডের মতো নামী তারকারা প্রশ্ন তুলেছিলেন মার্কিন প্রযোজক হার্ভে ওয়ানস্টিনের বিরুদ্ধে। বলিউডের ‘ওয়াইনস্টিন’-এর বিরুদ্ধে কিন্তু তেমন কাউকে কথা বলতে শোনা যাচ্ছে না। সূত্র: দৈনিক নয়াদিগন্ত, , ১৭ অক্টোবর ২০১৮ (অনলাইন)

Saturday, October 13, 2018

8:28 AM

আমড়ার যত পুষ্টিগুণ

অন্যান্য ফলের মধ্যে সুস্বাদু একটি হলো আমড়া। বাংলাদেশে পুষ্টিকর এই ফলটির দু'টি প্রজাতির চাষ হয়। দেশি আমড়া ও বিলাতি আমড়া। বিলাতি আমড়া দেশি আমড়ার মতো টক নয়। এটি খেতে টক-মিষ্টি স্বাদের। এতে শাঁস বেশি, আকারেও বড়। বিলাতি আমড়া কাঁচা খাওয়া হয়। বিলাতি ও দেশি দই’ধরনের আমড়া থেকেই সুস্বাদু আচার, চাটনি এবং জেলি তৈরি করা যায়। তরকারি হিসেবে রান্না করেও আমড়া খাওয়া যায়। মুখে রুচি বৃদ্ধিসহ অসংখ্য গুণাগুণ রয়েছে আমড়া। গোল্ডেন আপেলখ্যাত আমড়ার বৈজ্ঞানিক নাম Stondia Dulcis। এটি Anacardiaceae পরিবারভুক্ত। আমড়ায় জলীয় অংশ ৮৩.২, খনিজ ০.৬, লৌহ ০.৩৯, আঁশ ০.১, চর্বি ০.১, আমিষ ১.১, শর্করা ১৫, ক্যালসিয়াম ০.৫৫ শতাংশ। 

পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আমড়ায় প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি, আয়রন, ক্যালসিয়াম আর আঁঁশ আছে, যেগুলো শরীরের জন্য খুব দরকারি। হজমেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই তেল ও চর্বিযুক্ত খাদ্য খাওয়ার পর আমড়া খেয়ে নিতে পারেন; হজমে সহায়ক হবে। আমড়ায় প্রচুর ভিটামিন সি থাকায় এটি খেলে স্কার্ভি রোগ এড়ানো যায়। বিভিন্ন প্রকার ভাইরাল ইনফেকশনের বিরুদ্ধেও লড়তে পারে আমড়া। অসুস্থ ব্যক্তিদের মুখের স্বাদ ফিরিয়ে দেয়। 

সর্দি-কাশি-জ্বরের উপশমেও আমড়া অত্যন্ত উপকারী। শিশুর দৈহিক গঠনে ক্যালসিয়াম খুব দরকারি। ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস এই আমড়া। শিশুদের এই ফল খেতে উৎসাহিত করতে পারেন। এছাড়া এটি রক্তস্বল্পতাও দূর করে। কিছু ভেষজ গুণ আছে আমড়ায়। এটি পিত্তনাশক ও কফনাশক। আমড়া খেলে মুখে রুচি ফেরে, ক্ষুধা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। 

আমড়ায় থাকা ভিটামিন সি রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। খাদ্যে থাকা ভিটামিন এ এবং ই এটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে দেহকে নানা ঘাত-প্রতিঘাত থেকে রক্ষা করে। দাঁতের মাড়ি শক্ত করে, দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত, পুঁজ, রক্তরস বের হওয়া প্রতিরোধ করে আমড়া। এর ভেতরের অংশের চেয়ে বাইরের খোসাতে রয়েছে বেশি ভিটামিন সি আর ফাইবার বা আঁশ, যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে করে দ্বিগুণ শক্তিশালী। আর আঁশজাতীয় খাবার পাকস্থলী (স্টমাক), ক্ষুদ্রান্ত, গাছহদন্ত্রের (পেটের ভেতরের অংশবিশেষ) জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। সূত্র: দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন (অনলাইন)

Monday, October 8, 2018

6:53 AM

যৌনক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা তরমুজ!

একবিংশ শতকে পৃথিবী নানা দিক থেকে সাবালক হলেও এখনও শরীর, যৌনতা এ সব  নিয়ে সরাসরি আলোচনা করার মতো পরিসর  এখনও আমরা সর্বত্র পাই না। এমনকি খুব নিকটজনের সঙ্গেও এ সব নিয়ে মুখ খুলতে চান না অনেকেই। এই সংক্রান্ত সমস্যাও এড়িয়ে যেতেই চান একাংশ, চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করাতেও যেন হাজারও সংকোচ! তবে বিশেষজ্ঞরা এবার অন্য কথা বলছেন।

তাঁদের মতে, যৌন সমস্যা অনেকটাই কমিয়ে ফেলতে পারেন আপনি। সেটাও খুব সহজেই। এমন উপাদান আছে প্রকৃতিতেই, যা কিনা আসলে ভায়াগ্রার মতোই শক্তিশালী।

টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।  এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্রুট অ্যান্ড ভেজিটেবল ইমপ্রুভমেন্ট সেন্টারের ডিরেক্টর গবেষক ভিনু পটেলের নেতৃত্বে এই গবেষণা চালান একদল বিশেষজ্ঞ। তাঁদের দাবি, যৌন অক্ষমতা দূর করতে তরমুজের ক্ষমতাও ভায়াগ্রার সমান!

যৌনক্ষমতায় যাঁরা দুর্বল বা অক্ষম— তাঁদের জন্য তরমুজই সেরা ‘প্রাকৃতিক ঔষধ’।  তরমুজে থাকা সিট্রোলিন নামের অ্যামাইনো অ্যাসিড-ই এই ক্ষমতার জন্য দায়ী। এর উপস্থিতি যে তরমুজে এত বেশি পরিমাণে রয়েছে এর আগে বিশেষজ্ঞরা তা বুঝে উঠতে পারেননি। শুধু সিট্রোলিনই নয়, তরমুজে থাকা আরজিনিনকেও এই গুণের অন্যতম ‘কারণ’ বলছেন, ভায়াগ্রার মতোই রক্তনালিকার কাজ স্বাভাবিক ও সহজ রেখে যৌন ক্ষমতাকে কিছুটা বাড়িয়ে দেয় এই আরজিনিন।

গবেষকদের দাবি, নিয়মিত খাদ্য তালিকায় তরমুজ রাখলে যৌনক্ষমতা তো বাড়েই, তাছাড়াও তরমুজের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট মানসিক চাপ কমায়। তাঁদের মতে, শারীরিক  সম্পর্কের অন্তরায় এই মানসিক চাপও। এমনকি, প্রস্টেট ক্যানসার, ফুসফুসের ক্যানসার এ সব রুখে দিতেও ওস্তাদ তরমুজ। এ ছাড়া তরমুজে আছে লিকোপেন।  লিকোপেন হাড়ের স্বাস্থ্যকে রক্ষা করে।

যৌন ক্ষমতা বাড়ানো ছাড়াও তরমুজের ক্যারোটিনয়েডে চোখের নানা সমস্যা দূর হয়।  তরমুজে প্রচুর জল থাকে বলে তা সহজেই পেট ভরায় কিন্তু শরীরে ক্যালোরি ঢোকে না একটুও। ফলে ওবেসিটি কমাতেও এই ফল বিশেষ কার্যকর। আর ওবেসিটিজনিত অসুবিধাও যৌন সম্পর্কে নানা বাধার সৃষ্টি করে। তাই নানা দিক থেকে তরমুজেই যৌন সমস্যার সমাধান দেখতে পাচ্ছেন গবেষকরা। সূত্র: দৈনিক আনন্দবাজার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ (অনলাইন)
6:06 AM

ঘুমের মধ্যেও মেদ ঝরাবেন যেভাবে

আধুনিক জীবনযাত্রা ও পরিবর্তিত খাদ্যাভ্যাস এই দুইয়ে মিলে শরীরে রোজই জমছে অতিরিক্ত মেদ। সময়ের অভাবে প্রতিদিন জিম বা শরীরচর্চার সময়ও পান না অনেকেই। কিন্তু তা বললে কি চলে? মেদ ঝরানোর সব রকম চেষ্টায় তাই ঘুম উড়েছে অনেকেরই। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুম ওড়ালে চলবে না। কারণ, ঘুমানোর মধ্যেই না কি রয়েছে মেদ ঝরানোর হরেক উপায়!

মানে, ঘুমের বিভিন্ন নিয়ম ও তার আগে-পরের নানা অভ্যাসই কমিয়ে দেবে মেদ। এ সব স্বভাব জানা থাকলে ঘুমের মধ্যেই কমিয়ে ফেলতে পারবেন কয়েক কেজি ওজন।

ঘুমানোর সময়েই শরীরের মেটাবলিজম রেট সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই এই সময়টা ওজন কমানোর জন্য যথেষ্ট উপায় বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসকের মতে, সঠিকভাবে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস শরীরের মেদ কমাতে খুব সাহায্য করে। নির্দিষ্ট একটা বায়োলজিক্যাল ক্লক মেনে চললে শরীরের মেটাবলিজম রেট নিয়ন্ত্রণে থাকে। অন্তত: ৭-৮ ঘণ্টা টানা ঘুমানো প্রয়োজন।

ঘুমের সময় মেদ কমাতে চাইলে ঘুমানোর আগে হালকা কিছু খান। হতে পারে তা প্রোটিন শেক বা এমন কোনও পানীয়, যা শরীরকে পুষ্টি দেওয়ার সঙ্গে হালকা রাখে।

ঘুমের আগে অনেকেই ঘর অন্ধকার করেন, কিন্তু জ্বালিয়ে রাখেন নাইট ল্যাম্প। চিকিৎসকের পরামর্শ, নাইট ল্যাম্পও নিভিয়ে দিন। সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে ঘুমালে শরীরে ক্যালোরি বার্ন বেশি হয়। তবে, অন্ধকার ঘরে ঘুমালে পোকা-মাকড়ের ভয় থাকা স্বাভাবিক। তাই মশারি টাঙান অবশ্যই।

ঘুমের আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ ঘাঁটবেন না। মোবাইল, টিভি ও ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে আসা নীল আলো শরীরে মোলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। মেলাটোনিন ক্যালোরি বার্ন করার অন্যতম প্রধান উপাদান। এই মেলাটোনিনের পর্যাপ্ত  জোগান না থাকলে মেদ কোনও দিনই কমবে না। তাই ঘুমনোর আগে মোবাইল-ল্যাপটপ-ভিডিও গেম থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।

হালকা এসি চালিয়ে ঘুমান, বাড়িতে এসি না থাকলে ঘুমানোর আগে উষ্ণ পানি দিয়ে গোসল সেরে নিন। মাথা বাদ দিলেও শরীরটুকু ভেজান। পাখা চালিয়েই ঘুমান। ঘুমের মাঝে নিজেকে গরম রাখতে শরীর নিজেই বেশি ক্যালোরি খরচ করে। এতে মেদ কমে সহজে। তবে সর্দি-কাশির অসুখ থাকলে এই বিষয়টি এড়িয়ে যেতে পারেন।

​কখন ঘুমাতে যাবেন যেমন গুরুত্বের, তেমনই কিন্তু কখন রাতের খাবার সারছেন সেদিকে নজর রাখাও দরকার। সহজেই মেদ ঝরাতে গেলে ঘুমানোর অন্তত: দু’ঘন্টা আগে রাতের খাবার সেরে নিন৷ পাশাপাশি রাতের খাবারটাও হালকা রাখুন৷ সেক্ষেত্রে সরাসরি ফ্যাট জমে না শরীরে।

কেউ কেউ ভারী বা আঁটসাঁট পোশাকে ঘুমাতে যান। মেদ ঝরাতে শরীরকে হালকা রাখুন। চেষ্টা করুন নরম ও হালকা পোশাকে ঘুমাতে। আঁটসাঁট পোশাকে রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত হয়। আবার ভারী ও ঢাকা পোশাক থাকার ফলে নিজেকে গরম রাখতে শরীরকে খুব একটা শ্রম করতে হয় না, ফলে ক্যালোরি বার্নও কম হয়। তাই ঘুমের মধ্যও শরীরের ক্যালোরি কমাতে চাইলে হালকা পোশাকই বেছে নিন। সূত্র: দৈনিক আনন্দবাজার, ৫ অক্টোবর ২০১৮ (অনলাইন)

Saturday, October 6, 2018

11:44 AM

ফেসবুকে যেসব তথ্য শেয়ারে হতে পারে মারাত্মক বিপদ

তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে বর্তমানে একাধিকবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে। ইতিমধ্যে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট মুছে দিয়েছেন অনেক ইউজার। তবে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট মুছে না ফেলেও কয়েকটা বিষয় নিয়ে একটু সতর্ক থাকলে সহজেই বাঁচা যাবে হ্যাকারদের থেকে। 

ফেসবুকে ইউজারের নাম এবং ঠিকানা থেকে সহজেই তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের যাবতীয় তথ্য পেয়ে যেতে পারে হ্যাকাররা। তাহলে কি ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খুলতে গেলে নিজের সম্পর্কে কোনও সঠিক তথ্য দেওয়া উচিত নয়? অবশ্যই উচিত, তবে ব্যক্তিগত তথ্যগুলি ফেসবুকে দেওয়ার আগে মাথায় রাখা উচিত বেশ কয়েকটা বিষয়। জেনে নেওয়া যাক এমনই গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়-

কোথাও বেড়াতে গিয়ে বা পরিবারের সঙ্গে কোনও রেস্তোরাঁয় গিয়ে ছবি পোস্ট করলেন ফেসবুকে। ট্যাগ করে দিলেন সেই জায়গা বা রেস্তোরাঁর নাম। আপনার ব্যক্তিগত তথ্য জেনে গেল ফেসবুক। পাশাপাশি হ্যাকারদের কাছেও পৌঁছে গেল সেই খবর।

ফেসবুক থেকে অন্য কোনও পেজে ঢুকে কখনও কেনাকাটা করতে ঢুঁ মারেন নাকি? কেনাকাটা করেন ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডে? এমনটা করবেন না। এই ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য দিতে গিয়েই কার্ড জালিয়াতির শিকার হয়েছেন অনেকে।

ফেসবুকে লোকেশন সেট করে রেখেছেন বুঝি? ফেসবুকে লোকেশন সেট করে রাখলেই আপনার অবস্থান সম্পর্কে বিশদ তথ্য পেয়ে যাচ্ছে হ্যাকাররা। মোবাইল থেকে ফেসবুক ব্যবহার করলে এ ক্ষেত্রে সমস্যা বা বিপদের ঝুঁকি আরও বেশি।

ফেসবুকে বোর্ডিং পাসের তথ্য শেয়ার করেন? ভয়ঙ্কর বিপদ ডাকছেন নিজের অজান্তেই। কেননা আপনার বোর্ডিং পাসের বারকোড নম্বর দিয়ে হ্যাকাররা আপনার যাবতীয় তথ্য পেয়ে যেতে পারেন সহজেই।

ফেসবুকে পরিবারের শিশুদের, স্ত্রী বা মেয়ের ছবি অথবা নিজের একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি শেয়ার করার আগে একটু ভাবুন। হ্যাকারদের মাধ্যমে যৌন অপরাধীদের হাতে সেই ছবিগুলি জুড়ে যেতে পারে কোনও পর্নগ্রাফির ওয়েহবসাইটের ছবির সঙ্গে। সূত্র: দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন, ৩ অক্টোবর ২০১৮ (অনলাইন)
11:20 AM

যেসব খাবার ক্যানসার সৃষ্টি করে

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক খাবার ক্যানসারের ঝুঁকি কমায় এবং অনেক খাবার আবার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। যেসব খাবার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় তা নিজে জানুন এবং অন্যকে জানিয়ে সচেতন করে দিন।

১. আলুর চিপস : চিপসের স্বাদ মচমচে করার জন্য কৃত্রিম রং, ফ্লেভার, ট্রান্স ফ্যাট ও প্রচুর লবণ মিশানো  হয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

২. ফ্রেঞ্চ ফ্রাই : আমেরিকান ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতে, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই তৈরির সময়  উচ্চ তাপ ও তেলের সংস্পর্শে অ্যাক্রাইলেমাইড সৃষ্টি হয়ে ক্যানসার হয়।

৩. প্রক্রিয়াজাত মাংসের খাবার : বেকন, হটডগ, মিডলোফ, সসেজ, বার্গার ইত্যাদি খাবারে সোডিয়াম নাইট্রেট থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, সোডিয়াম নাইট্রেটযুক্ত প্রক্রিয়াজাত মাংস মানবদেহে এন নাইট্রোসোতে পরিণত  হয়ে ক্যানসার সৃষ্টি করে।

৪. সফট ড্রিংকস : কোমল পানীয়তে থাকে ক্ষতিকর রং, অতিরিক্ত সোডা ও অপ্রাকৃতিক চিনি। এটি রক্তে গ্লুকোজ বাড়িয়ে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্ট বাড়িয়ে মেটাবোলিক সিনড্রম ও ক্যানসার তৈরি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, কোমল পানীয়তে ‘৪-মিথাইলমিডাজল’ নামের যে রং থাকে, এটি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

৫. কৃত্রিম চিনি : কৃত্রিম চিনি অ্যাসপার্টের চিনির চেয়ে ১০ গুণ বেশি মিষ্টি এবং ক্যালোরি শূন্য। এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে। তাই খুব জনপ্রিয়। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিতভাবে কৃত্রিম চিনি খেলে ব্রেইন ক্যানসার হতে পারে।

৬. পুরাতন তেল : পুরোনো তেল দিয়ে বারবার খাবার রান্না করলে ফ্রি রেডিক্যাল তৈরি হয়ে ডিএনএ কে ভেঙে ক্যানসার  হতে পারে।

৭. অ্যালকোহল : অতিরিক্ত অ্যালকোহল মানব দেহে রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে অ্যাসিটেলডিহাইডে পরিণত হয়ে ডিএনএ ভেঙ্গে ক্যানসার তৈরি করে।

৮. গ্রিল, বারবিকিউ : গ্রিল, বারবিকিউ এ ধরনের মাংসে উচ্চ তাপে হেটারোসাইক্লিক অ্যামাইন তৈরি হয়। এ থেকে ক্যানসার হতে পারে।

৯. বিষাক্ত কীটনাশক ও ক্যামিক্যাল যুক্ত ফলমূল : আমেরিকান ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতে, ৩০ ভাগ কীটনাশক হচ্ছে কারসিনোজেন। এটি মানব দেহে কোনো না কোনো ক্যানসার তৈরি করে।

১০. খোলা বাজারের শরবত : বাজারের শরবতে থাকে দূষিত পানি, বরফ ও ক্ষতিকর রং। এগুলো জন্ডিস, হেপাটাইটিস ও লিভার ক্যানসার সৃষ্টি করে।

১০. 
10:52 AM

ক্যান্সার সারাতে ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে রক্তচোষা জোঁক!

মরণব্যাধী ক্যান্সারের কথা শুনলেই শরীর শীতল হয়ে আসে। আর জোঁককে ভয় পান না এমন মানুষ বিরল। অথচ ভয়ঙ্কর এই ক্যান্সারকে ভীতিকর জোঁক দিয়ে দূর করার পদ্ধতি চিকিৎসাসেবায় যুক্ত হয়েছে। যাকে বলা হচ্ছে-‘জোঁক থেরাপি’। বেশ কয়েকটি জটিল রোগের চিকিৎসায় জোঁককে কীভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে তা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে-

জোঁককে কাজে লাগিয়ে এই চিকিৎসা শুরু হয় যেভাবে : জোঁককে কাজে লাগিয়ে জটিল রোগ নিরাময়ের থেরাপির নাম ‘জোঁক থেরাপি’। এই অভিনব পদ্ধতিতে চিকিৎসা শুরু হয় ২০০৪ সালে। এই সময় একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত হয় যে, জোঁক বাস্তবিকই নানাভাবে মানবশরীরের উপকারে আসে।

হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়ায় : ২০১১ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, ঠিক পদ্ধতিতে জোঁককে ব্যবহার করলে সারা শরীরে রক্তের সঞ্চালন বেড়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়তে থাকে। আসলে জোঁকের স্যালাইভা বা লালা এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। অলটারনেটিভ মেডিসিন রিভিউ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ব্লাড ক্লট এবং পা ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা কমাতেও এই পদ্ধতি বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

ক্যান্সারের প্রকোপ কমায় : এই মরণ রোগের চিকিৎসায় বেশ সহায়ক ভূমিকা পালন করে জোঁক। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, অন্য ওষুধের পাশাপাশি ক্যান্সার রোগীর শরীরে যদি জোঁকের স্যালাইভা প্রবেশ করানো যায়, তাহলে স্তন, মেলানোমা, ফুসফুস এবং প্রস্টেট ক্যান্সারের প্রকোপ অনেকাংশেই কমানো সম্ভব।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে : বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ২০ বছরের মধ্যে সারা বিশ্বে প্রায় ৩৬ কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে ভুগবে। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি ডায়াবেটিসের কারণে হওয়া নানাবিধ জটিলতা কমাতে জোঁক থেরাপি দারুণ কার্যকর।

ছোঁয়াচে রোগের প্রকোপ কমায় : জোঁকের শরীরে থাকা ডেস্টাবিলেস নামক এক ধরনের প্রোটিন আমাদের শরীরে প্রবেশ করার পর সব ধরনের জীবাণুকে মেরে ফেলে রোগের প্রকোপ কমাতে সাহায্য করে।

প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালে হওয়া একটি গবেষণায় দেখা গেছে, জোঁকের শরীরে থাকা নিউরোসিগনালিং এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পেপটাইড যে কোনো ধরনের সংক্রমণকে কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। 

অস্টিওপোরোসিসের চিকিৎসা : জয়েন্টে ব্যথা হলে সেসব জায়গায় কিছু সময় জোঁককে রাখলে সেখানে রক্ত সরবরাহ প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটে। ফলে অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগীরা অনেক উপকৃত হন। 

কানের যন্ত্রণা কমায় : বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কানের ক্রণিক যন্ত্রণা কমাতে জোঁকের কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে একটা জোঁক কানের পিছনে, আর একটি কানের সামনে কিছু সময় রেখে দিতে হবে। এমনভাবে ৩-৪ দিন করলেই যন্ত্রণা একেবারে কমে যাবে। সূত্র: বিডিপ্রতিদিন, ৪ অক্টোবর ২০১৮ (অনলাইন)